October 14, 2026, 1:10 am
খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো খুলে দিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি চুক্তি সই করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। যুদ্ধ চলাকালে বিশ্বজুড়ে যে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছিল, সই হওয়া এ চুক্তির ফলে তা থেকে মুক্তির পথ খুলেছে। এখন চুক্তি বাস্তবায়ন হলে সারাবিশ্ব যেমন উপকৃত হবে, তেমনি বাংলাদেশও উপকৃত হবে। ফলে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম কমবে। সেই সঙ্গে কমবে মূল্যস্ফীতি। এমনই অভিমত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।
তারা বলছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। যুদ্ধ চলাকালে খাদ্যশস্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এই দুই দেশ যে চুক্তি করেছে তা ঐতিহাসিক। এ চুক্তি বাস্তবায়ন হলে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে গম, সানফ্লাওয়ার, সার, কীটনাশক রপ্তানি হবে। বাংলাদেশ এর সুফল পাবে। গমভিত্তিক বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম কমবে। সেই সঙ্গে কমবে ভোজ্যতেলের দাম। পাশাপাশি সারে সরকারের ভর্তুকি কমে আসবে।
চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। রাশিয়া হামলা শুরুর পর ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হু হু করে বেড়েছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা ও দুর্ভিক্ষের পদধ্বনির মধ্যেই খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো খুলে দিতে শুক্রবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে জাতিসংঘ-সমর্থিত চুক্তিটি সই করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।
এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার চুক্তির ফলে আশা করা যায় আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা কমবে। এরই মধ্যে গমের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা কমেছে। আমাদের দেশে গম অনেকটাই আমদানিনির্ভর। সুতরাং আমরা তার থেকে (গমের দাম কমা) কিছুটা সুফল পাবো। সেটা হয়তো আমাদের মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমতে একটু সময় লাগে। সে কারণে এদিকে সরকারকে একটু সচেতন থাকতে হবে।
অন্যদিকে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এখানে অনেক অনিশ্চয়তা আছে। কারণ যুদ্ধের মধ্যে যেকোনো কিছু ঘুরে যেতে পারে। যদি কোনো অঘটন না ঘটে এবং চুক্তি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় তাহলে এর বিরাট বড় একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ইউক্রেনে দুই কোটি টন গম জমা আছে। রাশিয়ায় আরও বেশি পরিমাণ গম জমা আছে। যুদ্ধের কারণে এখন রাশিয়া ও ইউক্রেন কেউই তা রপ্তানি করতে পারছে না। চুক্তি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে সেটা পৃথিবীর বাজারে চলে আসবে। এরই মধ্যে গমের দাম কমে গেছে।
কাজেই সেটা আমাদের জন্য সুবিধা হবে। আমাদের গমের দাম কমে যাবে। একই সঙ্গে ভুট্টার দাম কমবে। সেই সঙ্গে ভোজ্যতেলের দামও কমবে। কারণ ইউক্রেন হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সানফ্লাওয়ার রপ্তানিকারক দেশ। সানফ্লাওয়ার তেল যদি বাজারে বেশি আসে, তাহলে সয়াবিনের দাম কমে যাবে। পাম অয়েলের দামও কমবে। কাজেই সেদিক থেকেও আমরা বেনিফিটেড হবো এবং সারাবিশ্ব বেনিফিটেড হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বে দুর্ভিক্ষের একটা ছায়া পড়ে গিয়েছিল। আফগানিস্তান, সোমালিয়া, কেনিয়ার মতো বিভিন্ন গরিব দেশগুলোতে অবস্থা ভয়াবহ। লেবানন, সিরিয়ার মতো মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কিছু দেশে গমের দাম বাড়ায় ক্ষুধা এবং দারিদ্র্য বেড়ে গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেনের চুক্তি বাস্তবায়ন হলে সে জায়গা থেকে পৃথিবী বেরিয়ে আসতে পারবে। এতে পৃথিবীর উপকার হবে, আমাদের দেশেরও উপকার হবে।